bangla natok

পরিচালক ভাবুক শুধু গল্প ও নির্মাণ নিয়ে

আমাদের দেশের নাটকের ইন্ডাস্ট্রিতে বছরে প্রায় ১০০০-১২০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ হয়। সংবাদকর্মী হিসেবে কাজের সূত্রে কদিন আগেও শুনেছি ভাই নাটক বানিয়েছি, ৩ লাখ ২০ হাজারে বিক্রি করছি ২ লাখ ৫০ হাজারে। তাও কয়েক মাস চ্যানেলের পিছনে ঘুরাঘুরির পর। লস! শুধু লস!

এখন সত্যি কথা বলতে এ ধরনের কথা শুনি না। এখন যেটা শুনি পরিচালক বা কলাকুশলীরা ঠিকমত তাদের প্রাপ্য পারিশ্রমিক না পাওয়ার কথা বলেন। কিন্তু প্রযোজকরা তাদের লগ্নি তুলতে পারেন নাই, এটা শুনি নাই।

কারণ এখন বিনিয়োগ উঠে বেশ কয়েক উপায়ে। যদি মোটামুটি পরিচিত কাস্টিং নিয়ে আপনি নির্মাণ করেন তাহলে স্পন্সর থেকে মিনিমাম একটা অ্যামাউন্ট পাবেন। এরপর চ্যানেল আপনাকে সব সময় খরচের টাকা না দিলেও ভাল টাকা দিবে।

এর মধ্যেও যদি আপনার খরচ না উঠে আসে তাহলে ইউটিউব থেকে আয় করতে পারবেন। যার কারণে গত ৬-৭ বছরে ইউটিউবে বাংলা নাটকের প্রচুর দর্শক তৈরি হয়েছে। কয়েক কোটি করে ভিউও হয়েছে অনেক নাটক।

আড়াই থেকে সাড়ে তিন লাখে বানানো সিংগেল নাটক মোটামুটি দশ-পনের লাখ ইউটিউব ভিউ হলে বিনিয়োগ তুলে আনতে পারে বা কাছাকাছি চলে যায়।

এখন অন্য দিকে গত ২-৩ বছর ধরে VOD সাইট বা ভিডিও অন ডিমান্ড সাইট বায়োস্কোপ বা আইফ্লিক্সে সাবস্ক্রিপশন ফি দিয়ে নাটক দেখতে পারে। প্রযোজকরা টিভিতে অনএয়ারে পর এসব প্ল্যাটফর্মে দিয়ে দিচ্ছেন। এবছর বেশকিছু চাহিদা সম্পন্ন নাটক পুরানো ও নতুন কিছু প্ল্যাটফর্মে দিয়ে দেওয়া হবে বলে অগ্রিম ঘোষণা এসেছে। এতে অনেক দর্শক বেশ ক্ষুব্ধ। কারণ তারা ইউটিউবে দেখতে পারবেন না।

এটা ঠিক ইউটিউবে দিলে অনেক বেশি মানুষের কাছে দ্রুত পৌঁছানো যায়। কিন্তু দেখেন সবার আগে বিনিয়োগ সুনিশ্চিত করতে চায় সকল প্রযোজক।

আগে যেখানে একটা মাধ্যম ছিল, সেখান থেকেই টাকা তোলাই কঠিন ছিল। এখন যখন বিনিয়োগ উঠে আসা শুরু করেছে তখন বিনিয়োগের অভাবে ভাল নাটক বানাতে পারি না, পরিচালকরা এ অজুহাত আর দিতে পারবে না। বরং আপনারা নাটক কই দেখতে পাচ্ছেন তা নিয়ে টেনশন না করে পরিচালকদের চাপ দেন ভাল গল্প, নির্মাণের কাজ আপনাদের উপহার দিতে।

এখনো বুঝছেন না, তাহলে বলি ইউটিউবে এক কোটি ভিউ হলে যে টাকা পাবেন একজন প্রযোজক, তা VOD সাইটে মাত্র ২-৩ লাখ ভিউতে পেয়ে যান। যার কারণে তাকে মাসের পর মাস বা বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয় না। ফলে তারা নতুন বিনিয়োগে যেতে পারেন। আপনারা নতুন ভাল-খারাপ কাজ দেখতে পান।

আর সবচেয়ে বড় জিনিস হচ্ছে অনেক পরিচালক-প্রযোজকের দেড়-দু লাখ টাকা নিয়ে বিচার সালিশ বসত। প্রযোজক পরিচালককে বিনিয়োগের টাকা তুলে দেওয়ার জন্য চাপ দিত। একজন পরিচালক একটা নাটক নির্মাণ করে ওই নাটক বিক্রির জন্য এজেন্সি বা চ্যানেলের দ্বারে দ্বারে ঘুরত দিনের পর দিন। তাতে করে তার ক্রিয়েটিভিটি অঙ্কুরেই মারা যেত।

সবার আগে পরিচালককে পরিচালনা বাদে অন্য চিন্তার ভার থেকে মুক্তি দেন। তাতে করে আপনারই উপকৃত হবেন।

ahmed zaman shimul

বিনোদন সাংবাদিক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *